ও ‘মুসলিম’, কোন চেতনার পতাকা বহন করছো তুমি, ‘অ-সাম্প্রদায়িক চেতনা’র? সেতো এক নস্ট চেতনার অন্ধকূপ!

বিসমিল্লাহ! আল-হামদুলিল্লাহ!

‘অ-সাম্প্রদায়িক চেতনা’ একটা নস্ট চেতনার অন্ধকূপ

“সাম্প্রয়দায়িক শক্তিকে রুখে দাও।”
“সাম্প্রদায়িকতার কালো হাত গুড়িয়ে দাও”
“অ-সম্প্রদায়িক চেতনার সমাজ গড়ো”

ও মুসলিম, কি দর্শন মাথায় নিয়ে তুমি ইসলাম করো?
ও মুসলিম, এইসব কি তোমার দর্শন?
কিভাবে তোমার মাথাকে তুমি নাস্তিকদের অধিকারে দিয়ে দিলে, ও আমার ভাই?

তুমি তো তোমার স্রষ্টাকে, আল্লাহকে বিশ্বাস করো।
তোমার সেই স্রষ্টা তো তোমাকে একটা মাথা দিয়েছে, তোমাকে সব সৃষ্টির সেরা বানিয়েছে সেই মাথাটা দিয়েই।
তাহলে কিভাবে সেই মাথাটা তুমি যে তোমার রবকে বিশ্বাস করে না, সেই নাস্তিকদের অধিকারে দিয়ে দিলে, ও আমার ভাই?

গলদ (Falsehood) নাম্বার ১ – উৎপত্তিতেই গলদ, শুরুটাই নষ্টঃ 

‘অ-সাম্প্রদায়িক চেতনা’
এই কথাটার উৎপত্তিতেই গলদ প্রকাশিত।
এই বিষয়টার উদ্যোগ এর মধ্যেই মিথ্যা প্রকাশিত।
এটা একটা বাতিল বিষয়।
এটা একটা অসত্য বিষয়।

যদি একটা মানুষ তার স্রষ্টা প্রদত্ত মাথা এবংং অন্তরটা ব্যবহার করে তাহলে দিন এবং রাত্রিকে যেভাবে সে পরিষ্কার বুঝতে পারে তেমনি এর এই ভূয়া, এর ভিতরের গলদটা বুঝতে পারবে। এর মিথ্যা তার কাছে প্রকাশ হয়ে পড়বে।

আচ্ছা কাউকে কি বোঝাতে হবে স্বাভাবিক এবং অ-স্বাভাবিক শব্দ দুটি কখন ব্যবহার করা হয়?
সামঞ্জস্য আর অ-সামঞ্জস্য শব্দ দুইটি কোথায়, কখন এবং কি বোঝাতে ব্যবহার করা হয়?
সামাজিক আর অ-সামাজিক শব্দ দুইটি কোথায়, কখন এবং কি বোঝাতে ব্যবহার করা হয়?
যোগ্য এবং অ-যোগ্য কি অর্থে ব্যবহৃত হয়?
সময় আর অ-সময় শব্দ দুটির ব্যবহার কিভাবে হয়?
সুন্দর আর অ-সুন্দর কখন কি অর্থে ব্যবহার হয়?
গ্রহনযোগ্য আর অ-গ্রহনযোগ্য মানে কি?
বিশ্বাস আর অ-বিশ্বাস কি এক জিনিষ?
সত্য এবং অ-সত্য কখন ব্যবহৃত হয়?

তেমনি ‘সাম্প্রদায়িক’ শব্দটাই হচ্ছে স্বাভাবিক, আর ‘অ’ অক্ষরটা দিয়ে ‘অ-সাম্প্রদায়িক’ বানানোর মধ্যেই বোঝা যাচ্ছে এটা স্বাভাবিক নয়।
সহজ কথায় একটা হচ্ছে সঠিক আর একটা হচ্ছে ভুল।
সোজা কথায় একটা হচ্ছে সত্য আর একটা মিথ্যা।
একটা সরল অংক।

আহ মানুষ। আহ শয়তান।
কিভাবে একটা অসত্য বিষয়কে পূজি করে কিছু মানুষ ‘চেতনার’ সৃষ্টি করছে আর লক্ষ লক্ষ মানুষের জ্ঞ্যন, বুদ্ধি, অন্তরকে ঢেকে দিয়েছে দিনের পর দিন, বছরের পর বছর। এটা কি মানুষের পক্ষে সম্ভব? একমাত্র শয়তান ছাড়াতো এর মানুষের এই অন্ধত্যর আর কোন ব্যখ্যা আমার মাথায় আসে না।

আল্লাহ সত্য আর তার রাসুল সত্য। সাল্লল্ললাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।
২৫ বছর আমি ও অন্ধই ছিলাম।
এই অন্ধত্য নিয়ে অসত্য ‘চেতনা’র ফেরীওয়ালা হয়েছি।
বই পড়েছি, গান লিখেছি, গান গেয়েছি। অসত্যের গান।
কিভাবে সেটা সম্ভব?
আমি তো অবিশ্বাসী ছিলাম না!
তাহলে কিভাবে এতো লম্বা সময় এই অন্ধকূপের দর্শনে দিন যাপন করছিলাম?

গলদ (Falsehood) নাম্বার ২ – ‘সম্প্রদায়হীন মানুষ’ এক নিকৃষ্ট বাতিল চেতনার সৃষ্টিঃ 

মানুষ সম্প্রদায় ভুক্ত থাকবে এটাই তো স্বাভাবিক।
এটা মানুষের জন্মগত স্বভাব।
তার পরিবার, তার আত্মীয়, তার পড়শী নিয়ে তার সম্প্রদায়।
তার পূর্বপুরুষ এবং পূর্বপুরুষের আচার ব্যবস্থা নিয়ে তার সম্প্রদায়ভুক্তি।
কিন্তু এই সম্প্রদায়ভুক্তিকে কুঠারাঘাত করেছে স্রষ্টায় বিশ্বাস।

কারন স্রষ্টায় বিশ্বাস মানে হচ্ছে স্রষ্টা প্রদত্ত আচার ব্যবস্থাকে মেনে চলা।
তাই যে মানুষ স্রষ্টায় বিশ্বাস করেছে সে এবার স্রষ্টা প্রদত্ত আচার ব্যবস্থা নিয়ে তার সম্প্রদায়ভুক্তিকে ভিন্ন মাত্রা দিয়েছে।
একটা ভিন্ন সম্প্রদায় গঠন করেছে তার সম্প্রদায়ভূক্তিকে নিবিড় করেছে স্রষ্টার নিয়মে, স্রষ্টা প্রদত্ত আচার আচরন পালন করে।

একজন বৌদ্ধ আর একজন হিন্দু কি এক সম্প্রদায়ভূক্ত মানুষ? তাদের আচার ব্যবস্থা কি এক?
একজন হিন্দু তার হিন্দু সম্প্রদায়ভূক্ত থাকবে এটাই তো সবভাবিক।

একজন বৌদ্ধ তার বৌদ্ধ সম্প্রদায়ভূক্ত থাকবে এটাই তো সবভাবিক। একজন বৌদ্ধ তার পূরবপুরুষের আচার ব্যবস্থা পরিহার করে ‘গৌতম’ নামক একজন মানুষের শিক্ষাকে তার জীবনের আচার ব্যবস্থা বলে গ্রহন করেছে। তার নাম দিয়েছে বৌদ্ধ ধর্ম। সে সেই আচার ব্যবস্থা নিয়ে তার সম্প্রদায় ভুক্ত থাকবে এটাই তো স্বাভাবিক।

ধর্ম-বিশ্বাসী মানুষ তার ধর্মীয় সম্প্রদায় নিয়ে বসবাস করবে, এটাই তো স্বাভাবিক।
আর যে মানুষ স্রষ্টায় বিশ্বাস করে না সে তার পূর্বপুরুষের আচার ব্যাবস্থা আর নিজেদের খেয়ালখুশী মতো আচার ব্যবস্থা বানিয়ে তা নিয়ে থাকবে এটাই তো সাভাবিক।
বরং সেই মানুষকে অ-সম্প্রদায়িক বানানোটাই তো অস্বাভাবিক।
তার ‘চেতনা’ সৃষ্টি করতে চাওয়াইতো হচ্ছে বাতিলের চেতনা সৃষ্টি করা। মানুষকে মিথ্যার দিকে আহবান করা।

গলদ (Falsehood) নাম্বার ৩ – কোন সম্প্রদায়ভুক্ত হলে ‘মানুষে মানুষে ভেদাভেদ’ হয় না?

বাতিল একের পর এক বাতিলের আরাধনাই করবে এটাই বাতিলের ধর্ম।
প্রমান চাও?
এটা হচ্ছে এদের অবস্থানের বৈপরীত্য।
বাঙ্গালীত্ব কি সাম্প্রদায়িকতা নয়?
এরা একদিকে তোমার মধ্যে অ-সাম্প্রদায়িক ‘চেতনা’র সৃষ্টি করছে আবার ঠিক অন্যদিকে তোমাকে অন্য একটা সম্প্রদায়ভূক্ত হতে আহবান করছে। হা হা! কি এক বাতিল মাথামোটার কাজ। একমাত্র শয়তানের পক্ষেই বুদ্ধিমান মানুষকে এতো দীর্ঘ সময় ধরে এরকম বুদ্ধিহীন করে রাখা সম্ভব।

তো তারা তোমাকে কোন সম্প্রদায়ভূক্ত হতে চায়?
বাঙ্গালী।
বাঙ্গালীয়ানা ।
বাঙ্গালীত্ত।
কতো তাদের নাম, পদ আর সর্বনাম।

আচ্ছা এই চেতনার জন্য তারা একটা শ্লোগান ব্যবহার করে,
একটা বাতিলকে সত্যের মতো করে উপস্থাপন করার জন্য আর একটা বাতিলের আমদানী করে।
বলোতো সেটা কি?
‘মানুষে মানুষে ভেদাভেদ নেই”

এবার আসো অঙ্কটা স্মরন করিয়ে দেই তোমাকে।
সরল অঙ্ক।
ক্লাস টুতে যে অঙ্কের হাতে খড়ি তোমার।
২ যোগ ২ সমান ৪।
মনে আছে তো?

‘বাঙ্গালী’ হওয়া কি একটা সম্প্রদায়ভূক্ত হওয়া নয়?
আর তুমি যদি ‘বাঙ্গালী’ সম্প্রদায়ভূক্ত হও তবে ‘পাহাড়ী’, ‘পাঞ্জাবী’, ‘বেলুচি’ ‘ইংরেজী’ এই সব সম্প্রদায়ের সঙ্গে কি তুমি ভেদাভেদ সৃষ্টি করে ফেললে না?

নাকি ধর্মীয় বিশ্বাস নিয়ে আলাদা সম্প্রদায় হলে সেটা ‘মানুষে মানুষে ভেদাভেদ’ বলে গন্য হয় কিন্তু যখন তোমার পূর্বপুরুষের যে আচার-ব্যবস্থা বড়াই করে তুমি নিজেকে ‘বাঙ্গালী’র গর্বে গর্ভধারন করছো, তখন সেটাতে আর অন্য সম্প্রদায়ের মানুষের সঙ্গে ‘মানুষে মানুষে ভেদাভেদ’ হয় না?

পশুর মাথা মানুষের অবয়বে ধারন করে তুমি ভাবছো তুমি মানুষ?

“আমি সৃষ্টি করেছি মানুষকে  শ্রেষ্ঠতম অবয়বে। অতঃপর তাকে ফিরিয়ে দিবো নীচ থেকে নীচে “
(আল-কোরআন আল হাকিম ৯৫ঃ৪-৫)

গলদ (Falsehood) নাম্বার ৪ – বাতিল ও অবশেষে বাতিলের সম্প্রদায়ভুক্তি চায়ঃ

তাহলে ব্যপারটা কি? কেন মানুষকে অ-সাম্প্রদায়িক বানানোর ‘চেতনা’ দেয়া হচ্ছে?
আর দেখো কিভাবে একটা গলদ বিষয়ের ব্যাবসা তারা করছে এই ‘অ-সাম্প্রদায়িক’ কথাটা ব্যবহার করে।
ভেড়ার মাথা নিয়ে যে মানুষ সদৃশ প্রানীগুলি চলে তাদেরকে তারা এই ভুয়া চেতনার খামারে ভূশি খাওয়ায় দিনের পর দিন।
এটাতো ভেড়ার মতো পশুদের কাজ, চিন্তা ভাবনা না করে অন্ধভাবে অনুসরন করা!

হে স্রষ্টায় বিশ্বাসী মানুষ।
তোমাকে তোমার স্রষ্টা শ্রেষ্ঠ বানিয়েছে একটা বিশেষ অঙ্গকে তোমার অধিকারে দিয়েছে যা সে তার আর কোন সৃষ্টিকে দেয় নি।
তা হচ্ছে তোমার চিন্তা করার ক্ষমতা, তোমার চিন্তা-চেতনার অনুভূতি।
সেই মাথা দিয়ে চিন্তা কর।
তাহলে তুমি পরিষ্কার ভাবেই বুঝতে পারবে, তারা ও সম্প্রদায় ভুক্তি চায়।

কিন্তু তুমি কি জানো, তারা তোমাকে কোন সম্প্রদায়ভূক্ত করতে চায়?
এরা আস্তিক এবং নাস্তিকের একত্র ভূক্তি চায়।
আচ্ছা যে ছেলে বাবা-মাকে স্বীকার করে না, আর যে ছেলে তার জীবন দিয়ে বাবাকে মাকে সেবা করে, এরা কি কোনদিন একে অন্যকে ভালোবাসতে পারে? একত্রে বসতে পারে?
হে স্রষ্টায় বিশ্বাসী মানুষ, তোমার স্রষ্টা তোমাকে একটা মাথা দিয়েছে।
চিন্তা কর।
ও ‘মুসলিম’, তোমার রব তোমাকে অসীম রহম করেছে।
সেই রহমা ভুলে তুমি বাতিলদের সম্প্রদায়ভুক্ত হয়ো না।

“তোমরাই হলে সর্বোত্তম সম্প্রদায় (উম্মত), মানবজাতির কল্যানের জন্যেই তোমাদের উদ্ভব ঘটানো হয়েছে। তোমরা সৎকাজের নির্দেশ দান করবে ও অন্যায় কাজে বাধা দেবে এবং আল্লাহর প্রতি ঈমান আনবে। ” 

আল-কোরানুল হাকিম ৩ঃ১১০

Share, if there's benefit in it. Dawah benefits YOU!
%d bloggers like this: