“আসমানের নীচের নিকৃষ্ট জীবেরা” – “The “Worst Creatures under the sky”

বিসমিল্লাহ। আল হামদুলিল্লাহ। আস সালাতু আস সালামু আলা রসুলিল্লাহ।

লেখাটা সেই শিশুদের জন্য, যারা শিখতে চায়, জীবনভর শিখে চলে।
তাদের জন্য নয়, যারা অন্ধত্ব বরন করেছে অত্যন্ত একাগ্রতার সঙ্গে।
তবে আল্লাহ্, আল-হাদী চাইলে ভিন্ন কথা।

প্রস্তাবনা – ১ঃ

জাহান্নামের দরজা থেকে ডাক দেয়া আহবান কারীরা (দা-য়ী, দুয়’আত)
যে মানুষ অন্য মানুষকে জাহান্নামের পথে ডাকে তার চাইতে নিকৃষ্ট জীব আর কে হতে পারে? (বুখারী ৭০৮৪)
যে মানুষ মুসলিম হিসেবে জন্ম নেয়ার পর ও সেই মুসলিমের মুশরিক হিসেবে মৃত্যুর কারন হতে পারে, তার চাইতে নিকৃষ্ট জীব আর কে হতে পারে?

প্রস্তাবনা – ২ঃ

আসমানের নীচের নিকৃষ্ট জীবেরা
আলী রদিয়াল্লাহু তা’আলা থেকে বর্ণিত, রসুলুল্মলাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন ,
“আমি অচিরেই লোকদের উপর এমন একটি সময় আসার আশংকা করছি, যখন কেবলমাত্র নাম ছাড়া ইসলামের আর কিছুই বাকি থাকবে না এবং কুরআনের লিখিত রূপটি ছাড়া তার বাস্তবায়ন থাকবে না। মসজিদগুলো চাকচিক্যে ভরপুর হলেও হিদায়াত থেকে বঞ্চিত হবে। ঐ সময়কার আলেমরা হবে আসমানের নিচে বিচরণকারী সর্বনিকৃষ্ট জীব। তাদের থেকেই বিভিন্ন ফিৎনা ছড়াবে এবং তারা নিজেরাও সেই ফিৎনায় আবর্তিত হবে।” (বায়হাকী, শুআবুল ঈমান, সহীহ)

১ঃ আতঙ্কের উপাখ্যানঃ

শয়তান সম্পর্কে আল্লাহ সুবহানাহু সাবধান করে বলেছেন “সে তোমার নিশ্চিত”, কারন সে তোমাকে জাহান্নামে নিতে চায়।
এবং তোমার রব তোমাকে কতো রকমের উপায় বলে দিয়েছেন এই শত্রুকে পরাস্ত করার জন্য। সুবহানআল্লাহ।

কুফফারদের সম্পর্কে আল্লাহ আজ্জা ওজাল্লা বলেছেন “সে তোমার নিশ্চিত শত্রু” (আল-কোরান ৪ঃ১০১)
কারন সে তোমাকে কুফর, শিরক এ আহবান করবে, অতঃপর তোমাকে আল্লাহ তা’আলার অবাধ্য করার চেস্টা করবে যার পরিনাম হবে জাহান্নাম।
আর তোমার রব তোমাকে কতো রকমের উপায় বলে দিয়েছেন এই শত্রু থেকে বেঁচে থাকার জন্য, এই শত্রুকে পরাস্ত করার জন্য। সুবহানআল্লাহ।

কিন্তু এরপর সাবধান করা হয়েছে আর এক প্রকারের দুয়াত, আহ্বানকারী যারা তোমাকে জাহান্নামে নেবে। (বুখারী ৭০৮৪, ইংরেজী, দারুস সালাম পাব্লিকেশান্স, /Bukhari 3606)।
কারা এই আহ্বানকারী? এ আহবানকারী অনেক ধরনের।
বিভিন্ন যুগের মুহাদ্দিসগণ এ হাদিসের ব্যাখ্যায় বিভিন্ন শ্রেণীর দিকে ইঙ্গিত করেছেন, সবাই যে শ্রেণীর দিকে সাধারন ইঙ্গিতটা দিয়েছেন, সে শ্রেণী হলো, একশ্রেণীর উলেমা। আর একটু বিশ্লেষণ করলে তুমি ও সহজেই সেটা বুঝতে পারবে, এরা হচ্ছে উলামা।
কারন অন্য যেসব শ্রেণীর দিকে মুহাদ্দিসগণ ইঙ্গিত করেছেন, তাদেরকে মানুষ সাধারনত ‘অনুসরণকারী’ হিসেবে নেয় না, তাদের আহবানের ফিতনায় ইচ্ছায়, অনিচ্ছায় পড়ে যায়। কিন্তু এই উলামা শ্রেণীকে মানুষ অনুসরন করার জন্য ঝাপটে ধরে এবং অন্ধভাবে অনুসরন করার জন্য নিজের জীবনকে পর্যন্ত তুচ্ছ মনে করে। এই অন্ধত্ব এমনভাবে সে গ্রহন করে যে সে আল্লাহ্ এবং রাসুলের পরিষ্কার আদেশকে সেই অন্ধত্বের উপরে স্থান দেয়। (একমাত্র আল্লাহ জানেন, কোথায় তাদের অবস্থান আল্লাহর কাছে, আল্লাহ্ তাদেরকে হেদায়া দান করুক)

লক্ষ্যনীয় বিষয় হচ্ছে যে, যখন রসুলুল্লাহ সাল্লা আল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এদের সম্পর্কে বলেছেন, এটা বলেন নি যে এরা তোমার নিশ্চিত শত্রু, বলেছেন, “এরা সরাসরি জাহান্নামের দরজা থেকে ডাক দিবে। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রজিউন) আর তুমি যদি সেই ডাকে সাড়া দাও তাহলে তুমি তার সাথে জাহান্নামে প্রবেশ করবে” (নাউজুবিউল্লাহ)

সুবহানাল্লাহ, একটু গভীরভাবে তুমি যদি চিন্তা করো, তোমার নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে যাওয়ার কথা।
শয়তানকে বলেছে শত্রু, বলেনি যে শয়তান ডাক দিলে এবং তুমি সেই ডাকে সাড়া দিলেই জাহান্নামে চলে যাবে।
কারন তার থেকে বেঁচে থাকার নির্দিষ্ট উপায় বলে দিয়েছে।
কুফফারদের বলেছে শত্রু, বলেনি যে কুফফার ডাক দিলে এবং সেই ডাকে তুমি সাড়া দিলেই জাহান্নামে চলে যাবে।
কারন তাদের থেকে বেঁচে থাকার নির্দিষ্ট উপায় বলে দিয়েছে।
অথচ এই উলামাদের বিষয়ে বলেছে, “এরা সরাসরি তোমাকে জাহান্নামের দরজা থেকে ডাক দিবে।”
আর তুমি যদি সেই ডাকে সাড়া দাও তাহলে তুমি তার সাথে জাহান্নামে প্রবেশ করবে” (বুখারী ৭০৮৪)

এর চাইতে আতঙ্কের আর কি হতে পারে?
তুমি তো শয়তানের কাছ থেকে দ্বীন শিখতে বসবে না।
তুমি তো কুফফারদের কাছ থেকে ইসলাম সম্পর্কে জানবে না (যদি ও অনেক মুসলিমই আজ কুফফারদের দেখানো এবং কুফফারদের কাছে গ্রহনযোগ্য ইসলামকেই ইসলাম বলে মানে, Those are “Muslims in Kuffar’s Mindset”, আল্লাহ্ তাদেরকে হিদায়া দান করুক)
তুমি তো দ্বীন শিখবে একজন উলামার কাছে। তার কাছ থেকে সাবধান হওয়ার কথাই তো আসে না।
অথচ সেই উলামাই যদি তোমাকে জাহান্নামের দরজা থেকে ডাক দেয়? (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রজিউন)
আরো মহা আতঙ্কের বিষয় হচ্ছে এই যে, এদের থেকে বেঁচে থাকার নির্দিষ্ট কোন উপায় বলে দেয়া হয় নি, এদেরকে চেনার নির্দিষ্ট কোন উপায় বলে দেয়া হয় নি ।
তবে, সাধারনভাবে কিছু নির্দেশনা ঠিকই আল্লাহ, তোমার রব তোমাকে দিয়েছেন । তিনি বলেছেন, কতবার যে তোমার রব তোমাকে বলেছেন, “তুমি কি চন্তা কর না?”
চিন্তা করলেই তো তুমি পেয়ে যাবে এই জাহান্নামের দরজা থেকে ডাকা উলামাদের চেনার উপায়সমূহ।
আজ তোমাকে সেরকম একধরনের উলামাদের পরিচয় করিয়ে দিবো ইন শা আল্লাহ্।

২ঃ আপনার সেরা উকিলটি আপনার পক্ষে কথা বলবে তো?

ও আমার মুসলিম ভাই ও বোনেরা,
আপনি যখন আল্লাহর কোর্টে দাঁড়াবেন, তখন আপনি চাইবেন যতো বেশী সাক্ষী আপনার পক্ষ্যে আপনি উপস্থাপন করতে পারেন।
এবং এইজন্য কতো রকমের এবাদতই না আপনি করছেন। (আল্লাহ্ আপনাকে এবং আমাকে এবাদতে আরো উন্নতি দিক।)
আপনি যখন আল্লাহর কোর্টে দাঁড়াবেন, তখন আপনি চাইবেন সবচেয়ে বড়ো উকিল (আপনার রাসুল) আপনার পক্ষ্যে কথা বলুক।
এবং এইজন্য কতো রকমের এবাদতই না আপনি করছেন। (আল্লাহ্ আপনাকে এবং আমাকে এবাদতে আরো দৃঢ় করুক।)
এখন ভাবুনতো, সেই সেরা উকিল যদি আপনার বিপক্ষেই কথা বলে? (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রজিউন)
এর চাইতে বড়ো দুর্দশা আপনার জন্য আর কি হতে পারে?
জান্নাত আর জাহান্নামের ফয়সালা ছাড়া কি আর কোন মধ্যপন্থা আছে, আপনি জানেন?

তাহলে সরল অঙ্কটা করে ফেলুন।
আপনার জান্নাতের জন্য যদি সবচেয়ে সেরা উকিলের প্রয়োজন হয়, অথচ সেই সেরা উকিল যদি আপনার বিপক্ষেই কথা বলে, তাহলে কি তা আপনার জন্য জাহান্নামের কারন হবে না? (আল্লাহ্ আপনাকে এবং আমাকে জাহান্নাম থেকে রক্ষা করুক)

৩ঃ গর্দভ কি জানে তার পিঠে সে কি বহন করছে?

কি সেই বিষয় যা আপনার জন্য জাহান্নামের কারন হতে পারে? (যার উপর/যার জন্য প্রযোজ্য)
আপনি কি জানেন, কিভাবে, কোন কাজের ফলে আপনি এই পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে পারেন?
এই আয়াতটি পড়ুন।

আল্লাহ সুবহানাহু বলছেন যে, আপনার রাসুল তার উম্মাহ সম্পর্কে আল্লাহর কাছে নালিশ করবে যে,

“ও আমার রব, আমার সম্প্রদায় এই কোরআনকে পরিত্যাগ করেছে।” (আল-কুরআনুল হাকীম ২৫ঃ৩০)

আপনি কি ভাবছেন আমি কোথায় কোরআন পরিত্যাগ করলাম? আল হামদুলিল্লাহ, আমিতো প্রতিদিন কোরআন পড়ি।
হুম, আপনি কোরআন পড়েন। তবে তা আল্লাহর সেরা সৃষ্টি মানুষের মতো আপনি কোরআন পড়ছেন না। আপনি নিজেকে গর্দভের পর্যায়ে নামিয়ে কোরআন পড়ছেন ।

আল্লাহ তা’আলা বলছেন ৬২ঃ৫
The example of those who were entrusted with the Torah and then did not take it on is like that of a donkey who carries volumes [of books] (যার জন্য প্রযোজ্য)
অর্থাৎ আল্লাহ বলছেন এরা হচ্ছে গর্দভ। গর্দভ তার পিঠে কি বহন করছে, তা সে জানে না।

আর নিজেকে গর্দভের পর্যায়ে নামিয়ে যিনি কোরআন পড়ছেন, তিনি কিভাবে কোরআনকে পরিত্যাগ করছেন?
বলছেন ইবনে কাছীর রহিমুল্লাহ। তিনি এই পরিত্যাক্ত বিষয়টিকে ব্যাখ্যা করেছেন যে,
“কোরআনকে না বুঝে পড়া এবং এর আয়াত নিয়ে চিন্তা না করাটা ও কোরআনকে পরিত্যাক্ত করা।”
“not pondering its meanings and not trying to understand it is the same as forsaking it”
(দেখুন কুরআন তাফসীর ইবনে কাছীর সুরা ২৫, আল-ফুরকান আয়া ৩০, দারুসসালাম পাবলিকেশন্স, ইংরেজী)

তার মানে, আপনি যখন ভাবছেন আপনি কোরআন পড়ে ‘ছাওয়াব’ পাচ্ছেন, (অথচ কি পড়ছেন আপনি জানেন না) এবং আপনি জানার চেস্টা ও করছেন না, তখন আসলে আপনি কোরআনকে পরিত্যাগ করছেন।
এবার বলুন কার কথা আপনি সত্য মনে করবেন?
আপনার উলামার কথা না ইবনে কাছীরের কথা?
ও আমার ভাই, চিন্তা করুন, কে সঠিক উলামা?
যে উলামা আপনাকে ‘ছাওয়াব’ দিচ্ছেন সেই উলামা না ইবনে কাছীর?

শুধু তাই নয়, আপনার উলামা যখন “না বুঝে পড়লে ও আপনাকে ‘ছাওয়াব'” খাওয়াচ্ছেন, তখন সত্যিকার উলামারা বলছেন “পুরোটা কোরআন না বুঝে পড়ার চাইতে মাত্র একটা আয়াত বোঝা এবং একটা আয়াত নিয়ে চিন্তা করা উত্তম”

Imām Ibn al-Qayyim [Allāh have mercy on him] said:
“To recite a single Ayāh (verse) of the Qurʿān with contemplation and reflection is better than reciting the Qurʿān to completion without any contemplation or reflection.”
— Source: Miftah Dar as-Sa’adah, (1/358)

 

৪ঃ আফসোস আপনার জন্যঃ

আহা! আপনার জন্য কতো আফসোস।
কতো কোটি মুসলিম আছে, কি তাদের কঠিন ঈমান, কিন্তু এদের হাতের মধ্যে ‘বোমা’ ধরিয়ে দিয়ে ও এদেরকে আপনি কোরআন পড়াতে পারবেন না।
কতো কোটি মুসলিম আছে, কি তাদের কঠিন ঈমান কিন্তু বুলডোজার দিয়ে ঠেলে ও আপনি ফজরের জন্য এদেরকে মাসজিদে আনতে পারবেন না।
আপনি তো সেই মুসলিম নন। আপনি লক্ষ মুসলিমের অনুপাতে একজন যিনি ফজরে মাসজিদে হেঁটে আসেন।
আপনি সেই লক্ষ মুসুল্লির অনুপাতে একজন যিনি কোরআন না পড়ে মাসজিদ থেকে বের হন না।
আপনি সেই অনুগত মুসলিম যিনি কোরআন না ‘খতম’ করে রামাদানকে যেতে দেন না।
কিন্তু আফসোস আপনার জন্য।
আপনি কি পড়ছেন আপনি জানেন না।
আপনার জন্য আফসোস।
আপনার রসুল আপনার বিরুদ্ধে আল্লাহ্ কাছে অভিযোগ করবেন কারন আপনি কোরআনকে পরিত্যাগ করেছেন।
আর রাসুল যার বিষয়ে আল্লাহর কাছে অভিযোগ করবে, তার কি অবস্থা হবে, ও আমার মুসলিম ভাই ও বোন, আপনিই বলুন?
জান্নাত আর জাহান্নামের ফয়সালা ছাড়া কি আর কোন মধ্যপন্থা আছে, আপনি জানেন?
আর রসুলুল্লাহ সাল্লা আল্লাহু আলাইহি সাল্লাম যার বিরুদ্ধে অভিযোগ করবেন, তার কোন পথ?
আল্লাহ আপনাকে বোঝার তোফিক দিক।
আল্লাহ আপনাকে এবং আমাকে জাহান্নাম থেকে রক্ষা করুক।

৫ঃ শয়তান যাদের কঠিন বাঁধনে বেঁধেছেঃ

বিষয়টা হচ্ছে এটা তো আপনি আসলে নিজে করছেন না। নিজ দায়িত্বে করছেন না। আপনার জান্নাতের দায়িত্ব আপনি তো সেই কবেই আপনার ‘উলামার’ উপর ছেড়ে দিয়েছেন। আর আপনার ‘উলামা’ আপনাকে এমন ‘ছাওয়াব’ এর ব্যাবস্থা করেছে যে।

আহা! কতো পরিমান সময় আপনি না বুঝে কোরআন পড়ার পিছনে ব্যয় করছেন কারন আপনার উলামা আপনাকে নিশ্চিতভাবে ‘ছাওয়াব’ তো দিচ্ছে। অথচ আপনি যদি সেই সময়টুকুর দশ ভাগের এক ভাগ আপনি কোরআন বুঝে পড়ার পিছনে ব্যয় করতেন আপনার জন্য সেটা কতই না ভালো হতো। আপনি যে সময়ে একপারা কোরআন না বুঝে পড়ছেন সেই সময়টাতে যদি আপনি মাত্র একটা, মাত্র একটা আয়াত বুঝতে চেস্টা করতেন, সেটা আপনার জন্য কত ভালোই না হতো আমার ভাই।

কিন্তু কেন আপনি ‘ছাওয়াব’ পাওয়াটাকেই কোরআন পড়ার অর্থ করেছেন?
একমাত্র কারন আপনার উলামা।
সে আপনাকে ‘ছাওয়াবে’র নিশ্চয়তা দিয়েছে।
চিন্তা করে দেখুন, কিছু ‘উলামারা’ কিভাবে কোটি মুসলিমকে জাহান্নামের পথে কয়েক জেনারেশন ধরে ডেকে যাচ্ছে।
এরাই হচ্ছে জাহান্নামের দরজা থেকে ডাক দেয়া আহবান কারীরা।
এরাই হচ্ছে আসমানের নীচের নিকৃষ্ট জীবেরা।
এদের কারনেই আজ মুসলিম উম্মাহ আজ এক জাহিল উম্মাহ।
এদের কারনেই মুসলিম আজ কুরআন নে জেনে কুফফার এর দ্বীন অনুসরন করছে।
(আল্লাহ তা’আলা ভালো জানেন)
আল্লাহ আল-হাদী এদের হিদায়া দান করুক।

৬ঃ শয়তানের গাইডেন্স 

আপনি ভাবছেন, ‘ছাওয়াব’ এর কথা তো হাদীসে আছে। উলামারা তো মিথ্যা বলছেন না।
মিথ্যা বলছেন না ঠিকই কিন্তু যা বলছেন তার পরিনতি তো এখন দেখতে পাচ্ছেন।
কথা হচ্ছে, এটা যদি তাদের একধরনের ‘বোঝার ভুল’ হতো তাহলে বিষয়টা সহজ হতো।
কিন্তু এটা যে শুধু তাদের বোঝার ভুল নয় বরং বিশেষ ইচ্ছা প্রনোদিত তা কি বুঝতে চান? (আল্লাহ ভালো জানেন)

এরা অন্য যে কোন বিষয়ের বেলায় কোন একটা আয়াতের অথবা একটা হাদিসের বিষয়ে কতো রকমের প্রাসঙ্গিকতা খুঁজে বের করে, সুবহানাল্লাহ।
কোথায় নাযিল হয়েছে, কোন সময় নাযিল হয়েছে, কোন প্রসঙ্গে আয়াতটা নাযিল হয়েছে, কোন স্থানে নাযিল হয়েছে মাক্কায় না মদীনায়। এরপর এই বিষয়ে অন্য আয়াত কি বলে, এই বিষয়ে হাদিস কি বলে, এই বিষয়ে সাহাবারা কি বলেছে, এই বিষয়ে সাহাবারা কি ভাবে বুঝেছে, সাহাবারা কিভাবে এর আমল করেছে। আল্লাহু আকবর। আল্লাহু আকবর।

অথচ এই হাদিসের বেলায় অতি সহজ প্রাসঙ্গিক বিষয়টা তাদের মাথায় ঢোকে না।
একটা ক্লাস ফাইভে পড়ুয়া বাচ্চাকে যদি এর ‘Critical Reasoning’ করতে বলুন, ও ঠিকই চিন্তা করে খুব স্বাভাবিক ভাবে বলে ফেলবে, “আচ্ছা এই কথাগুলি রাসুলুল্লাহ কাদের উদ্দেশ্য করে বলেছেন?” সাহাবাদের। সাহাবাদের ভাষা কি ছিলো? আরবী। তো তারা যখন কোরআন পড়বে, তার কি সেটা বুঝতে পারবে, না পারবে না? অবশ্যই তারা তো সেটা বুঝতেই পারবে, তারা যখন পড়বে তখন তো তা বুঝেই পড়বে।
আউজুবিল্লাহ! আবারো শয়তান ছাড়া আমি আর কোন কারন এর খুঁজে পাইনা।
একমাত্র শয়তানের গাইডেন্স পেলেই এটা সম্ভব।
শয়তান তাদেরকে অন্ধ করে, শরীর মুড়িয়ে সমুদ্রের গহীন আঁধারে ফেলে দিয়েছে বলেই তাদের পক্ষে এটা সম্ভব যে এই হাদীসকে সরাসরি আক্ষরিক অর্থে নিয়ে এর মাধ্যমে কয়েক বিলিয়ন মানুষকে হিমার (গর্দভ) বানিয়ে রেখেছে।

৭। আসমানের নীচের নিকৃষ্ট জীবেরাঃ

অথচ এই নিকৃষ্ট জীবেরা একজন কুররা (হুফফাজ, হাফেজ) কে এমনভাবে শিক্ষা দিয়েছে যে, যে কোরআন তাকে আল্লাহর নূরে আলোকিত করার কথা, সে বলে, “আমরা হলাম মূর্খ, কোরআন বুঝবে তারা যাদেরকে আল্লাহ্ নূর দিয়েছে”
এই নিকৃষ্ট জীবদের উৎপাদিত জীবদেরকে যখন কোরআন বোঝার জন্য বলা হয় অথবা অনুবাদ সহ পড়তে জোর (insist) করি তখন এরা বলে, “ভাই, আপনি নিজে নিজে কোরআন বুঝতে গেলে পথভ্রষ্ট হয়ে যেতে পারেন”

“আসমানের নিচে বিচরণকারী সর্বনিকৃষ্ট জীব” (গত কয়েক শতাব্দীর বেশীরভাগ আলেম, যাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য) বহুরকম ভাবে ইসলামকে আজকের এই ধ্বংসের পথে, খাদের কিনারে নয়, খাদের গভীরে টেনে ফেলেছে। আর কয়েক জেনেরেশান ধরে গর্দভগুলো, গর্দভের বাচ্চা প্রসব করেছে এমন যে (যার জন্য প্রযোজ্য), এরা অন্তরের সমস্ত দরদ নিয়ে কাফিরের দেশে বসবাসকারী জন্মগত মুসলিম ভাইদেরকে মাসজিদে ফেরানোর মিশন নিয়ে নিজ দেশ থেকে ঊড়ে আসে অথচ গর্দভের মাথায় থেকে যায় সেই একই শয়তানের বানী, “ভাই, আরবীতে (না বুঝে) পড়ে তো সাওয়াব পাচ্ছে, আর বুঝে পড়ে আজ অনেকেই নাস্তিক হচ্ছে”.

৮। আহ মুসলিম! তোমার জন্য আফসোস। এই তাঘুত উলামারা আজ তোমার গাইডেন্স

এই নিকৃষ্ট জীবেরা মুসলিমকে কোরআন বুঝতে এমনভাবে নিরুৎসাহিত করে, এরা এমন পর্যন্ত বলে, “আরবী জানলেই আপনি কোরআন বুঝতে পারবেন মনে করছেন? আরবের মুসলিমরা তো আরবীই জানে, তারা কি কোরআন বুঝতে পারে?”
এই তাঘুত উলেমারা এভাবে আল্লাহ, আজ্জা ওয়া জাল্লার বিপরীতে কথা বলে।
আপনার রব বলেছে, “আমি কোরআনকে সহজ করে দিয়েছি বোঝার জন্য” (আল-কোরানুল কারীম ৫৪ঃ১৭ ) আর এই তাঘুত বলছে, “কোরআন বোঝা কি এত সহজ?”

আমার রব, তুমি এদেরকে হিদায়া দান করো।
তুমি মুসলিম উম্মাহকে এই নিকৃষ্ট জীবদের হাত থেকে রক্ষা করো।
তুমি এই তাঘুত উলামাদের গাইড করো।
ও আল্লাহ, তুমি মুসলিম উম্মাহকে অন্ধত্তের হাত থেকে রক্ষা করো।
আমার রব, তুমি আমাদের জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করো।

৯। ও শ্রেষ্ঠ জীব, মানুষ, তুমি চিন্তা কর

ও আমার ভাই,
যে কোন জ্ঞ্যনী মানুষকে জিজ্ঞেস করুন, কি সেই কারন যা দিয়ে আপনার রব আপনাকে সকল জীব জন্তুর চাইতে শ্রেষ্ঠ বানিয়েছে? (আল-কোরাআনুল মাজীদ ৯৫ঃ৪)
তা হচ্ছে, আপনার চিন্তা এবং উপলব্ধি করার ক্ষমতা।
তাই চিন্তা করুন।
আর আপনার রবের কাছে সাহায্য প্রার্থনা করুন।
কি লাভ বলুন, যে ইসলাম পালন করার পর যদি এই তাঘুতের অনুগামী হয়ে আপনাকে মুশরিক হয়ে মৃত্যু বরন করতে হয়!
কি লাভ বলুন, এতো দরদ নিয়ে রাতদিন কোরআন পড়ার পর আপনাকে আপনার রাসুলের অভিযোগের মুখে পড়তে হয়!

এবং আল্লাহ ভালো জানেন।
আমার রব, তুমি আমাদের হিদায়া দান কর।
মুসলিম উম্মাহকে তুমি তোমার দবীন এ ফিরিয়ে আনো।
তুমি আমাদের মুশরিক হয়ে মৃত্যুবরণ করা থেকে রক্ষা কর।
আমার রব, তুমি আমাকে মাপ করো।

ফাইনালি, আমি এটা বিশ্বাস করি, শুধু কুরআন এর তিলওয়াহ শুনাটা ও অন্তরের জন্য এক ধরনের হিলিং, কারণ কুরআন হচ্ছে শিফা’আ। এবং কুরআন জাষ্ট পড়ার মধ্যে ও বেনেফিট আছে। কিন্তু শুধু না বুঝে পড়ার মধ্যেই যে এই উম্মাহকে সেটেল্ড করে ফেলা হয়েছে, সেটাই আমি মনে করি এই উম্মাহর ধ্বংস হওয়ার একটা কারণ। (আল্লাহ্‌ ভালো জানেন)। আল্লাহ্‌ এদের গাইড করুক। 

 

Share, if there's benefit in it. Dawah benefits YOU!
%d bloggers like this: