তোমার নিজেকেই কেন প্রথমে কোরআন নিয়ে চিন্তা করতে হবে? “আসমানের নীচের নিকৃষ্ট জীবদের” চেনার জন্য।

বিসমিল্লাহ! আল-হামদুলিল্লাহ!

প্রস্তাবনাঃ

“বেশীরভাগ মানুষ আল্লাহকে বিশ্বাস করে কিন্তু তার সঙ্গে শিরক ও করে” (১২ঃ১০৬)*
(মানে বেশীরভাগ ‘মুসলিম’ হচ্ছে মুশরিক।) নাউজুবিল্লাহ।

একটা সরল অঙ্কঃ একটা উপমা

তুমি একটা Organisation এ কাজ করো।
তোমার CEO একমাত্র তোমার নীতি নির্ধারক। (তোমার রব তোমার বিধান দাতা) (Al-Quran 12:40)
সেই CEO তোমাকে একটা Policy Manual ধরিয়ে দিয়েছে। (তোমার রব তোমাকে দিয়েছে কোরআন)
CEO তোমাকে বলছে, ‘আমার নিয়ম মেনে চলবেন, আমার MD এর কথা মেনে চলবেন, আর যেসব Managers থাকবে তাদের কথা মেনে চলবেন।’ (তোমার রব বলছে, আল্লাহকে মানো, তার রাসুলকে মানো আর তোমাদের মধ্যে যে আমীর তাকে মানো (আল-কুরআন ৪ঃ৫৯)

এবার তোমার MD বলছে, “এই হলো আমার Managers।”
“আপনি আমার কথা মেনে চলবেন, আমার Manager দের কথা মেনে চলবেন।” (তোমার রাসুল বলছে আমার খালিফাদের পথ অনুসরণ করো) (তিরমিজি ২৬৭৬ সহীহ)
” আর আমার Supervisor রা হচ্ছে আমার প্রতিনিধি।” (আর তোমার রাসুল বলছে উলেমারা হচ্ছে তার উত্তরসুরী) (আবু দাউদ ৩৬৪১)

তাহলে আসো দেখি তোমার প্রতিষ্ঠানের কর্তা ব্যাক্তিদের পদের ক্ষমতা এবং যোগ্যতার চার্টঃ

১. CEO
২. MD
৩. Managers
৪. Supervisors

এবার দেখি তোমার রবের Organisation এর চার্ট:

১. তোমার রব, আল্লাহ, আসমান আর জমিনের মালিক।
২. তোমার রাসুল, সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, তাঁর প্রেরিত রসুল।
৩. তোমার আমীর, আমীরুল মুমিনিন, খলিফা, যারা আদেশ মানতে হবে।
৪. আর উলামারা হচ্ছে রসুলের উত্তরসূরী, যাদের কাছে তুমি গাইডেন্স এর জন্য যাবে।

তোমার সঙ্ঘঠনের পলিসি/বিধিমালা আর তোমার রবের কোরআন

এবার তোমার MD তোমার হাতে CEO এর দেয়া Policy Manual ধরিয়ে দিলো। (তোমার রাসুল তোমার হাতে কোরআন দিয়েছে) (মিশকাত, ১ম খণ্ড, হাদীস নং- ১৭৭)
তুমি MD এর কথাবার্তার রেকর্ডপত্র পেয়ে গেলে। (তোমার রাসুলের হাদিস তোমার হাতের নাগালে)
Managers দের কথাবার্তার রেকর্ডপত্র পেয়ে গেলে। (খলিফাদের হাদিস ও তোমার জানা)

সাবধানবানী 

কিন্তু এরপর MD তোমার Managers দের ব্যাপারে সাবধান করে দিলো।
বললো, কোন Manager যদি Organisation এর জন্য ক্ষতিকর কোন আদেশ দেয় তবে তা মানা যাবে না। (তোমার রাসুল আমীরের কথা মানার শর্ত দিয়ে দিলো, আমীরের পাপ সম্পর্কিত আদেশ মানা যাবে না, সহীহ বুখারী ৪৩৪০)
শুধু তাই নয়,
এরপর তোমার MD একটা সময়ের ব্যাপারে তোমাকে সাবধান করে দিলো।
এবং সেই সময়ের Supervisor দের ব্যাপারে সাবধান করে দিলো।
বললো, একটা সময় আসবে যখন এই Supervisor রা তোমাকে Misguide করবে।
সে সময়ের Supervisor রা হবে “এই Organisation এর সবচেয়ে অসৎ কর্মী” (তোমার রাসুল তোমাকে সাবধান করে দিলো এই সময়ের উলেমাদের বিষয়ে যে, ‘তারা হবে আসমানের নীচে নিকৃষ্ট জীব’)
সে সময়ে তারা তোমার CEO সেজে বসবে, তোমার CEO এবং MD যা নিষেধ করেছে তা তারা অনূমোদন করবে, আবার CEO এবং MD যা করতে বলেছে তা তারা করতে নিষেধ করবে। (তোমার রব এবং তোমার রাসুল তোমাকে এও সাবধান করে দিলো যে, সেই উলেমারা আল্লাহ যা হারাম করেছেন তা তারা হালাল করে দেবে, আর তুমি যদি তখন তাদের ফতোয়া অনুযায়ী সে হারামকে হালাল মনে করো, তাহলে তুমি মুশরিক হয়ে যাবে। আল-কুরআন ৬ঃ১২১)

এখন সেই সময়

তোমার সামনে নাই CEO, তোমার সামনে নাই MD, তোমার সামনে নাই Managers
তাদের কারো কাছে পৌছানো তোমার পক্ষে সম্ভব না।
অথচ তুমি আজ, এখন সেই সময়ে পড়ে গেছো, যে সময়ের Supervisor দের সম্পর্কে তোমাকে সাবধান করে দেয়া হয়েছে।
তোমার সামনে আজ শত শত Supervisors। (আজ শত শত উলেমা তোমাকে বিপরীত কথা বলছে, শিরক এর মতো বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে মতবিরোধ হচ্ছে)
তুমি এখন কি করবে?

আল-ফুরকানঃ সত্য মিথ্যার ব্যাবধানকারী  

তুমি যদি সত্যি একজন নিবেদিত প্রান কর্মী হও, তুমি তোমার মাথাটা ব্যবহার করবে।
এই মাথাটার জন্যই তোমার CEO তোমাকে নিয়োগ দিয়েছিলো।
সেই মাথা তোমাকে বলবে, “ওহো, আমি তো ভূলেই গেছিলাম আমাকে আমার CEO যে Policy Manual দিয়েছিলো।
তুমি সেই Policy Manual নিয়ে বুঁদ হয়ে বসবে।
এই Organisation তোমার জীবনের Organisation.
তুমি কোনভাবেই Policy Manual এর বিপরীত কাজ করে তোমার চাকরী হারাতে চাও না।
তুমি Supervisor এর কোন আদেশ পেলেই তন্ন তন্ন করে Policy Manual খুঁজবে, Manual এর সঙ্গে এই আদেশের সঙ্গে কোন অমিল নাই তো?

নিকৃষ্ট কীট চেনার সহজ অঙ্কঃ 

কিন্তু এদিকে সেই অসৎ CEO রা তোমার মাথায় এরিমধ্যে তোমার CEO এর বিপরীত কথা ঢুকিয়ে দিয়েছে,
“এই শোন, এই Manual বোঝা অনেক কঠিন। তোমার তো মাথা নেই। তুমি ওই Policy Manual এর কি বুঝবা?” (তোমার উলেমারা বলছে “কোরআন বোঝা কি এতোই সহজ”?)
ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রজিউন।

যে Policy Manual তোমাকে বলছে, “আমি এটাকে সহজ করে দিয়েছি” (আল-কোরআন ৫৪ঃ৪০)
এই Supervisor রা বলছে তোমার সেটা বোঝা অনেক কঠিন।
যে CEO তোমার বুদ্ধিমত্তা আর তোমার Skill এর জন্যই তোমাকে নিয়োগ দিয়েছে, (তোমার রব তোমাকে ওই মাথাটা দিয়েই শ্রেষ্ঠ মানুষের মর্যাদা দিয়েছে)
যে Policy Manual তোমাকে বারবার স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে “তুমি কি মাথা ব্যবহার করবে না?” (আল-কোরআনুল কারীম ২৫ঃ৪৪)
এই Supervisor রা বলছে তোমার সেই মাথাই নাই।

বলো তো তোমার কি প্রাইমারী স্কুল পাশ করার ও দরকার আছে এই সরল অঙ্কটা বুঝতে যে কারা সেই সর্বনিকৃষ্ট Supervisors?
বলো তো তোমার কি কোন স্কুলেই যাবার প্রয়োজন আছে এই সহজ বিষয়টা বোঝার জন্য যে কারা সেই ‘আসমানের নীচের নিকৃষ্ট জীব’?


জানো, কাকে তুমি মানবেঃ

আল্লাহ, তোমার জীবনের নীতি নির্ধারণের একমাত্র মালিক যিনি, বলছেন, “আমার কথা মেনে চলো, আমার রসুলের কথা মেনে চলো আর তোমাদের মধ্যে যারা তোমাদের আমীর তাদের কথা মেনে চলো” (আল কোরআনুল হাকীম ৪ঃ৫৯)
এরপর তোমার রাসুল সল্লিল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “আমীরকে মেনে চলো কিন্তু কোন পাপের কাজে নয়” (সহীহ আল-বুখারী ৪৩৪০)
তোমার রসুল আরো বলেছেন, “তোমরা আমার পথ অনুসরন করো আর আমার খলীফাদের পথ” (তিরমিজি ২৬৭৬ সহীহ)
এরপর তোমার রসুল তোমাকে বলেছেন “উলামারা হচ্ছে রসুলের উত্তরসূরী” (আবু দাউদ ৩৬৪১)

কিন্তু এরপর সেই উলামাদের ব্যাপারেই আবার সাবধান করেছেন যে,
একটা সময় আসবে যখন এই “ঊলামারাই হবে আসমানের নীচের সর্বনিকৃষ্ট জীব” (বায়হাকী, শুআবুল ঈমান, সহীহ)
সে সময়ের লোকেদের কথা বলে গেছে যে, “তারা তোমাকে জাহান্নামের গেট থেকে ডাকবে। “ (বুখারী ৭০৮৪)
“সে সময়ে তারা তোমার রব সেজে বসবে “ (অর্থাৎ তোমার রব যা নিষেধ করেছে তা তারা অনূমোদন করবে, যা তোমার রব অনুমোদন করেছে তা তারা নিষেধ করবে, আর তুমি যদি তাদের কথা শোন তাহলে তুমি মুশরিক হয়ে যাবে) (আল-কোরআন ৬ঃ১২১)

কি করবে তুমি এখন?

তুমি কি জানো,
আজকের আমীররা/খলীফা শুধু পাপই নয়, তোমাকে শিরক এবং কুফরের আদেশ করছে আর তুমি তা মেনে নিচ্ছো?
(আমীর/খলীফা এর উল্লেখ করা এখানে অপ্রাসঙ্গিক ছিল। কারন আমীর/খলীফা বলতে কোন পদার্থ আজ আর অবশিষ্ট নেই, যদি ও একদল গবাদি পশুর দল (আল-কোরআনুল মাজীদ ৭ঃ১৭৯) আছে যারা আজকের তাঘুত শাসকদের ও সেই আমীর এর জায়গায় স্থান দিয়েছে, তাদের জন্যই আমীর এর পরিস্থিতি উল্লেখ করা)

তুমি কি জানো,
সেই উলামাদের রব মেনে কতো মুসলিম আজ কবরে যাচ্ছে?
(আমার রব, তুমি মুসলিমদের শিরকবিহীন মৃত্যু দাও।)

ও আমার ভাই,
মৃত্যু আসছে। মৃত্যু আসবে।
কিন্তু তোমার রবের অসীম রহমা এখনো তোমার প্রতি।
তোমার এখনো নিঃশ্বাস আছে।
আজ রাতেই তুমি তোমার জান্নাত অথবা জাহান্নাম নির্ধারণকারী কোরআন পড়ে ফেলো।
এবং এর প্রতিটি আয়াত নিয়ে চিন্তা করো।
তারপর বিরোধী দুই পক্ষের কথা শোন।

এই কোরআন আল্লাহ তোমার জন্য নাযিল করেছে।
পড় তোমার কোরআন।
আর এর প্রতিটি আয়াত নিয়ে চিন্তা কর।
বোঝার চেষ্টা কর,
কে কোরআন হাদিসের কি ব্যাখ্যা দিয়ে তোমাকে জাহান্নামের দরজা থেকে ডাকছে। (আমার ভাই, আল্লাহ তোমাকে এবং আমাকে জাহান্নাম থেকে রক্ষা করুক)

ও আমার ভাই, তুমি তো জানো, এটা শেষ সময়।
পড় তোমার কোরআন।
আর এর প্রতিটি আয়াত নিয়ে চিন্তা কর। 
বোঝার চেষ্টা কর,
কে আল্লাহর কোরআনের বিপরীতে কথা বলে, কোরআন বুঝতে, কোরআন নিয়ে চিন্তা করতে তোমাকে নিরুৎসাহিত করে নিজেকে তাঘুত এর পর্যায়ে নিয়ে গেছে আর তাঁর কথা মেনে নিয়ে তুমি নিজের অজান্তেই মুশরিক হয়ে বসে আছো। (আমার ভাই, আল্লাহ তোমাকে এবং আমাকে এই তাঘুত উলেমাদের থেকে রক্ষা করুক)

ও আমার ভাই, তুমি তো জানো, এটা মাহাদীর সময়।
পড় তোমার কোরআন।
আর এর প্রতিটি আয়াত নিয়ে চিন্তা কর। 
বোঝার চেষ্টা কর,
কে কোরআন হাদিসের কি ব্যাখ্যা করে তোমার জন্য আল্লাহর নির্দেশিত হারামকে হালাল বানিয়ে নিজেকে রব এর পর্যায়ে নিয়ে গেছে আর তাকে মেনে নিয়ে তুমি নিজের অজান্তেই মুশরিক হয়ে বসে আছো। (আমার ভাই, আল্লাহ তোমাকে এবং আমাকে মুশরিক হওয়া থেকে রক্ষা করুক।)
আর আল্লাহর কাছে অনুনয় কর তোমাকে হক্ক বোঝার জ্ঞ্যান দেয়ার জন্য।
তোমার অন্তরের বাসনা এবং আল্লাহর কদর অনুযায়ী আল্লাহ তোমাকে হিদায়া দান করবে ইন শা আল্লাহ।

এবং আল্লাহ ভালো জানেন।
ও আমার রব, তুমি আমাদের হিদায়া দান কর।
এই ‘নিকৃষ্ট জীব’দের হাত থেকে মুসলিম উম্মাহকে রক্ষা করো।
এই ‘নিকৃষ্ট জীব’দের তুমি গাইড কর।

Share, if there's benefit in it. Dawah benefits YOU!
%d bloggers like this: