আমার মৃত্যুর খবরটা দিতে এলাম।

কবর : এক চলন্ত সময়।

তোমার কবরটা ঠিক কোন জায়গায় হবে সেটা তোমার পরিবারকে জানিয়ে রেখেছো?
সময় পাও নি?
চিন্তা ও করনি?
বলো কি?

এই সেদিন তোমার বাবা আর তুমি এই কবরখানার পাশ দিয়েই যাচ্ছিলে না?
সে এখন কোথায়?
ও-ই কবরে?

তোমরা যখন কবর খানার পাশ দিয়ে যাচ্ছিলে তোমার বাবা কি নিয়ে কথা বলছিলো?

সে কি জানতো, এরপর কতোবার তুমি এই কবরখানার পাশ দিয়ে যাবে আর সে শুয়ে থাকবে তো থাকবেই।
তুমি তো বাসায় পৌছে যাবে, গায়ের কাপড় পাল্টাবে,
হাত পা ধুবে, টয়লেট করবে, খাবে, গল্প করবে, টিভি দেখবে, এরপর ঘুমাতে যাবে।
এরপর সকালে উঠে ও একই ধরনের কাজ করবে। এরপর এই কবরখানার পাশ দিয়েই পরদিন আবারো তুমি যাবে।

আহা কি আশ্চর্য, তোমার বাবার তো এসব কোন কাজ নেই।
সে সেখানেই আছে।
আহা! দিন নেই রাত নেই, সে ওখানেই আছে।
সে সেখানেই থাকবে।

সে কি জানতো এরপর তার নাতি ও একদিন এই রাস্তা দিয়ে যাবে, অথচ ঠিক সেদিন ও সে ওখানেই থাকবে?
আহা কতো যে সময়। কতো দীর্ঘ যে সময়।

যদি সে কোন শাস্তির যোগ্য হয়ে থাকে তাহলে যেই সময়ে তুমি বাসায় পৌছেছো সেটুকু সময় সে সেই শাস্তি পাচ্ছিল।
ইয়া আল-গফুর, তুমি তাকে মাপ করে দাও।

যদি সে কোন শাস্তির যোগ্য হয়ে থাকে তাহলে যেই সময়ে তুমি কাপড় পাল্টেছো, হাত মুখ ধুয়েছো, টয়লেটে থেকেছে, সেটুকু সময় সে সেই শাস্তি পাচ্ছিল।
ইয়া আর-রহিম, তুমি তাকে রহম করো।

যদি সে কোন শাস্তির যোগ্য হয়ে থাকে তাহলে যেই সময়ে তুমি খাচ্ছিলে, গল্প করছিলে, টিভি দেখছিলে, এরপর ঘুমাচ্ছিলে, সেটুকু সময় সে সেই শাস্তি পাচ্ছিল।
ইয়া আল্লাহ, তুমি তাকে কবরের আজাব থেকে রক্ষা করো।

সে ও যখন এভাবেই এই কবরখানার পাশ দিয়ে যেতো, সে ও কি ভাবতো এরকমটা হতে পারে?
আহা তার ও কি সময় ছিলো এসব নিয়ে ভাবার?
আল্লাহ জানে।

ইয়া আর-রহিম, তুমি তাকে রহম করো। ইয়া আল-গফুর, তুমি তাকে মাপ করে দাও। আমার রব, তুমি তাকে কবরের আজাব থেকে রক্ষা করো।
“রব্বির হামহুমা কামা রব্বি ইয়ানি সগীরঅ।”

কবরঃ তোমার অপেক্ষায়

তোমার কাফন যে কাপড়টায় হবে সেটা যে বাজারে চলে এসেছে, জানো?
খবর পাও নি?
দোকানের সেল্ফে ওটা সাজানো আছে, কেউ বলে নি?
যে আরামে আয়েশে জীবনটা কাটিয়েছো, কবরের সময়কালটা ও সেই আরামে যাবে তো? চেকলিস্টটা চেক করেছো?

আচ্ছা, তোমার ও-ই শরীরের দিকে একটু দেখোতো, কতোটুকু কস্ট তোমার এই শরীর নিতে পারবে মনে করো? একটু ৫০ ডিগ্রী তাপমাত্রা, অথবা ৫ ডিগ্রী তাপমাত্রায় মাত্র পাঁচ মিনিট? অসহ্য হয়ে যায় একটু? শরীরটা বড় আরামে অভ্যস্ত হয়ে গেছে? আহা!

আচ্ছা, একটা মরা সাপ তোমার খাটের নীচে থাকলে ঘুমাতে একটু কস্ট হবে? অথবা একটা মরা কেচো তোমার বিছানায়, ঘুমাতে সমস্যা হবে?

তুমি কি জানো কতো সামান্য বিষয়ের জন্য কবরে আজাব হয়?
তুমি কি জানো কতো তুচ্ছ (আউজুবিল্লাহ) বিষয়ের জন্য কবরে শাস্তি হয়?
তুমি কি জানো আল্লাহর জীবন বিধানের কতো ছোটখাটো ত্রুটির জন্য RESURRECTION এর দিন পর্যন্ত শাস্তি হয়?

খবর রেখেছো? পুরোটা সিলেবাসটা জানা হয়ে গেছে?
আচ্ছা তুমি কি চিন্তা করেছো,
ক্লাসে তোমার স্যার যা পড়ালো তোমার পরীক্ষার প্রশ্নে যদি তা না আসে? তুমি যে তোমার স্যারের উপর তোমার পাশের বাজী ধরে বসে আছো, কোরআন খুলে দেখোতো তোমার স্যার তোমাকে সব বিষয়গুলি পড়িয়েছে কিনা?
প্রশ্ন কারী কি তোমার স্যারের পড়ানোর চাপ্টারগুলো দেখে প্রশ্ন করবে, না কি যে বই তোমার পাঠ্য করে দেয়া হয়েছে, সে বই থেকে প্রশ্ন করবে?

বিচারক যখন কোন আসামীর বিচারের রায় শোনায় তখন তাকে আইনের ধারাগুলি জানায়, কোন কোন ধারা অনুযায়ী তার বিচার হচ্ছে।
সে কি ধার ধারে যে তুমি সেই ধারাগুলি জানতে না জানতে না?
তোমার বিচার আইনের ধারা মতোই হবে, তুমি তা জানো কি জানো না তাতে কি তার কিছু যায় আসে?

চিন্তা করো নি এসব? মৃত্যুর সময়টা এখনো আসেনি?
আরো কয়দিন যাক, তারপরে চিন্তা করবে?
ভাবছো যে মৃত্যুর আগে আগে ঠিক ঠিক একটা চিঠি পেয়ে যাবে?

আচ্ছা, কখনো কি কোন মৃতপ্রায় মানুষের খুব কাছে বসে থেকেছো?
এমন কোন মৃতপ্রায় যে, তুমি জানো সে নিজে ও মরার জন্য তৈরী হয়ে আছে,
এমন কোন মৃতপ্রায় যে, তুমি ও নিশ্চিত সে মরছেই,
বসেছো কি কখনো তেমন কারো কাছে?
তুমি কি দেখেছো, সেই নিশ্চিত মৃত্যুর মুখের ব্যক্তি ও কি মৃত্যুর ক্ষণটার চিঠি পেয়েছিলো?

এ এক অদৃশ্য আততায়ী। নির্মম।
সে আসবে। আসবেই।
কোন চিঠি না দিয়েই সে আসবে।
আর যখন তার আসার সময় হবে, সে তখন তোমাকে আর সময় দেবে না।
সে যখন আসবে তুমি একমাত্র তখনিই জানবে।
এক মুহূর্ত আগে নয়।
যে জগতে বুঁদ হয়ে পড়ে আছো,
সে জগতকে এক মুহূর্তে সেই আততায়ী শুন্যে মিলিয়ে দেবে।
আহা!

কবরঃ একটা সরল অংক

মনে পড়ে ছোট বেলার সরল অংকের কথা?
আসো একটা সেই সহজ অনক করি।

মাসজিদে সালাত শুরু হয় ৭.৩০ এ। বাসা থেকে মাসজিদে হাটার দুরত্ত ১০ মিনিট। এখন বাজে ৭.২৫, তুমি এখনো বাসায়। তাড়াহুড়ো করে বেরোচ্ছিলে আর বলছিলে, “আহা, সলাত শুরু হয়ে গেছে, সলাতটা মিস করে ফেললাম”

ব্যাপারটা বুঝলাম না। এখন বাজে ৭.২৫, সলাত শুরু হয় ৭.৩০ এ, অথচ তুমি বলছো সলাত শুরু হয়ে গেছে?

মানে, তোমার জন্য ৭.২৫ এ ঘরে থাকা মানে ৭.৩৫ এ মাসজিদে পৌছানো, যার অর্থ হলো সলাত মিস করা।
মানে, যদি ও আসল ঘটনা এখনো ঘটেনি তবু ও তুমি জানো, নিশ্চিত ভাবে জানো, সেই ঘটনা ঘটে গেছে। কেন সেটা তোমার কাছে নিশ্চিত মনে হচ্ছে? কারন হচ্ছেঃ
১. ঘটনার সঙ্গে তোমার অবুস্থানের দুরত্ব।
২. সেই দূরত্বে যেতে তোমার যতো সময় লাগবে তা।

এবার বলোতো মৃত্যুর কাছ তোমার অবস্থনের দুরত্ব কতো?
সেই দূরত্ব যেতে তোমার কতো সময় লাগবে?

সুবহানআল্লাহ,
অংক তো বলছে তোমার কবর এখনই খোড়া হচ্ছে।
অংক তো বলছে, তোমার কাফনের কাপড় কেউ কিনতে দোকানে চলে গেছে।
অংক তো বলছে, তোমার বন্ধুরা অবাক হয়ে তোমার মৃত্যুর খবর শুনছে।

কি মাথায় ঢুকছে না?
মনে পড়ে ছোট বেলার ঐকিক নিয়মের কথা?
আসো তবে সেই সহজ ঐকিক নিয়মটাই করি।

যে ঘটনা ৭.৩০ এ ঘটবে তা যদি তুমি ৭.২৫ এ ঘটে গেছে বলে নিশ্চিত হতে পারো,
তাহলে যে ঘটনা ১/২/১০/২০ দিন/মাস/বছরে ঘটবে তাকে কেন এখনই ঘটে গেছে বলে নিশ্চিত হতে পারছো না?

Share, if there's benefit in it. Dawah benefits YOU!
%d bloggers like this: